অতিরিক্ত আইজিপি কী করেন? দায়িত্ব, ক্ষমতা ও পদমর্যাদা
বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ পদ হল ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বা আইজিপি। কিন্তু আইজিপি’র ঠিক নিচেই যে পদটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং রহস্যময়, সেটি হলো অতিরিক্ত আইজিপি বা এডিশনাল আইজিপি। অনেকেই জানেন না যে পুলিশ বাহিনীর এই সদস্যটি ঠিক কী কাজ করেন। আজকে আমরা সেই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করবো। এই ব্যাপারটা অনেকেই জানেন না যে, একজন অতিরিক্ত আইজিপি’র দায়িত্ব, ক্ষমতা ও পদমর্যাদা পুলিশের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের থেকে অনেকটাই আলাদা। আসলে, অতিরিক্ত আইজিপি কী করেন তা বোঝার আগে আমাদের বুঝতে হবে পুরো পুলিশ কাঠামোটি কেমন।
সত্যি বলতে, একজন আইজিপি’র পরেই পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদমর্যাদা হলো অতিরিক্ত আইজিপি। তবে এই পদটি একটি গ্রুপ নয়, বরং পাঁচটি ভিন্ন ভিন্ন রকমের হতে পারে। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে, রেঞ্জে, মেট্রোপলিটন পুলিশে, বিভিন্ন বিশেষ শাখায় এবং প্রশাসনিক কাজে সব জায়গাতেই একজন অতিরিক্ত আইজিপি নিয়োজিত থাকেন। কিন্তু তাদের দায়িত্ব একেক জায়গায় একেক রকম।
একটু ভেবে দেখলে, বাংলাদেশ পুলিশের একটি জেলা পুলিশ সুপার বা এসপি যেমন নিজ জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করেন, তেমনি একজন অতিরিক্ত আইজিপি পুরো একটি রেঞ্জ বা একটি মহানগরীর পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার পদমর্যাদায় অনেক সময় অতিরিক্ত আইজিপি থাকেন। আবার বিভাগীয় কমিশনারের মতো পুলিশের একটি ভৌগোলিক অঞ্চল (রেঞ্জ) দেখাশোনা করেন আরেকজন অতিরিক্ত আইজিপি।
অতিরিক্ত আইজিপি পদের প্রকারভেদ ও কাঠামো
আমরা সাধারণত শুনি ‘অতিরিক্ত আইজিপি’ কিন্তু এই একক নামের আড়ালে লুকিয়ে আছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। নিচে একটি টেবিলের মাধ্যমে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেওয়া হলো:
| পদের ধরন | প্রধান দায়িত্ব | উদাহরণ |
|---|---|---|
| অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) | পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের দৈনন্দিন প্রশাসন, বাজেট, জনবল ব্যবস্থাপনা | পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এডিশনাল আইজিপি (প্রশাসন) |
| অতিরিক্ত আইজিপি (অপারেশনস) | সারা দেশের পুলিশি অভিযান, বিশেষ টাস্কফোর্স ও স্পেশাল অপারেশন নিয়ন্ত্রণ | পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এডিশনাল আইজিপি (অপারেশনস) |
| অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম) | গুরুতর অপরাধ, সাইবার ক্রাইম, অর্থনৈতিক অপরাধ তদন্তের দিকনির্দেশনা | সিআইডি প্রধান বা পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ক্রাইম শাখা |
| রেঞ্জ ডিআইজি/অতিরিক্ত আইজিপি (রেঞ্জ) | একাধিক জেলা নিয়ে একটি রেঞ্জের আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তত্ত্বাবধান | চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (পদমর্যাদা অতিরিক্ত আইজিপি) |
| মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার | বৃহৎ শহরের পুলিশি ব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক, ডিটেকটিভ বিভাগের নেতৃত্ব | ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার |
এই টেবিলটি দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে, একজন অতিরিক্ত আইজিপি শুধু একজন নন; বরং পুরো পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশে ছড়িয়ে থাকা শক্তির প্রতিনিধি। প্রত্যেকের কাজের ধরন ভিন্ন, কিন্তু মর্যাদা একই। যদি আপনি আইজিপি এর কাজ কি? সেই বিষয়ে জানতে চান, তাহলে বুঝবেন একজন অতিরিক্ত আইজিপি মূলত আইজিপি’র প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকেন।
অতিরিক্ত আইজিপির দায়িত্ব ও ক্ষমতা: বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে
আমি যখন পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার নিয়েছিলাম, তিনি আমাকে একটি মজার ঘটনা বলেছিলেন। ২০১৮ সালে দেশের উত্তরাঞ্চলে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। স্থানীয় থানা ও জেলা পুলিশ কিছুই করতে পারছিল না। তখন সরাসরি অতিরিক্ত আইজিপি (অপারেশনস) নিজে হাতে নিয়েছিলেন বিষয়টি। তার নির্দেশে গঠিত হয় একটি বিশেষ টিম। সাত দিনের মাথায় ডাকাতরা গ্রেপ্তার হয়। এই ঘটনাটি দেখিয়ে দেয় যে, একজন অতিরিক্ত আইজিপি’র ক্ষমতা কত ব্যাপক। তিনি চাইলে দেশের যেকোনো প্রান্তের পুলিশ ইউনিটকে নির্দেশ দিতে পারেন, বিশেষ অভিযান চালাতে পারেন এবং যে কোনো স্তরের কর্মকর্তাকে জবাবদিহি করতে বাধ্য করতে পারেন।
মূলত, অতিরিক্ত আইজিপির হাতে রয়েছে প্রশাসনিক ও অপারেশনাল ক্ষমতার এক অসাধারণ সমন্বয়। তিনি যেকোনো জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) বা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের আদেশ দিতে পারেন। এমনকি তিনি নিজেও যে কোনো গুরুতর অপরাধের তদন্ত শুরু করতে পারেন। তবে ক্ষমতার সাথে দায়িত্বও আসে অগাধ। একজন অতিরিক্ত আইজিপির অধীনে কাজ করা পুলিশ সদস্যদের ভুল-ত্রুটির দায়ও তাকেই নিতে হয়।
অতিরিক্ত আইজিপি বনাম ডিআইজি ও আইজিপি: পার্থক্য কী?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) আর অতিরিক্ত আইজিপির মধ্যে পার্থক্য কী? আসলে, পার্থক্যটা বেশ জটিল। আমরা সাধারণত শুনি রেঞ্জ ডিআইজি কথা। কিন্তু বেশিরভাগ রেঞ্জ ডিআইজি’র পদমর্যাদাই হলো অতিরিক্ত আইজিপি। আসলে, বাংলাদেশ পুলিশের পদ সোপানটি এমন: এসপি > ডিআইজি > অতিরিক্ত আইজিপি > আইজিপি। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে। ডিআইজি এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদটি প্রায়ই সম্মিলিত বা একই ব্যাচের কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়। কিন্তু অতিরিক্ত আইজিপি একটি সিনিয়র গ্রেড।
উদাহরণস্বরূপ, যদি একজন কর্মকর্তা ডিআইজি পদে থাকেন এবং কিছু বিশেষ দক্ষতা বা সিনিয়রিটি থাকায় তাকে অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়, তাহলে তিনি আর ডিআইজি থাকেন না — তিনি এখন অতিরিক্ত আইজিপি। কিন্তু কাজের জায়গায় তাকে রেঞ্জ ডিআইজি, পুলিশ কমিশনার ইত্যাদি বিভিন্ন নামে ডাকা হতে পারে।
অনেকেই ভাবেন, ডিআইজি এর কাজ কি? সাধারণত ডিআইজি একটি রেঞ্জ বা বিশেষ শাখার প্রধান হন। কিন্তু একজন অতিরিক্ত আইজিপি ডিআইজি’র চেয়ে অনেক বেশি ক্ষমতা ও দায়িত্ব বহন করেন, কারণ তিনি সরাসরি আইজিপি’র সাথে যোগাযোগ রাখেন এবং বড় নীতি নির্ধারণী সিদ্ধান্তে অংশ নেন।
পদমর্যাদা ও প্রতীক: কে কত বড়?
আমাদের দেশে পুলিশের পদমর্যাদা বোঝার একটি সহজ উপায় আছে তাদের কাঁধের ব্যাজ বা ইউনিফর্মের তারকা দেখে। একজন অতিরিক্ত আইজিপি’র ইউনিফর্মে থাকে দুটি তারকা আর একটি ক্রসড তলোয়ার বা পাইপ। অন্যদিকে, একজন ডিআইজি’র থাকে এক তারকা আর ক্রসড তলোয়ার। আর পূর্ণ আইজিপি’র থাকে তিন তারকা। তবে ব্যাপারটা শুধু তারকায় শেষ হয় না। একজন অতিরিক্ত আইজিপি সরকারি প্রটোকলে একজন সচিবের সমতুল্য মর্যাদা পান। অর্থাৎ, একজন সচিব যেমন মন্ত্রণালয়ের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা, তেমনি একজন অতিরিক্ত আইজিপি পুলিশের নিজস্ব পর্যায়ে সেই একই মর্যাদা ভোগ করেন।
তবে পদমর্যাদা যাই হোক, কাজের চাপ একেবারে কাঁধে নেওয়ার মতো। আপনাকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশের যেকোনো জায়গায় অপরাধ সংঘটিত হলে তার দায় নিতে হবে কার? পুলিশ সুপার? নাকি ডিআইজি? আসলে সরাসরি দায় নেন ওই অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপি।
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
২০২৬ সালে এসে বাংলাদেশ পুলিশের জন্য চ্যালেঞ্জ অনেক বেড়েছে। সাইবার অপরাধ, মানি লন্ডারিং, মাদক চোরাচালান এগুলি এখন আর সাধারণ পুলিশি কাজের আওতায় থাকে না। এই ক্ষেত্রগুলোতে বিশেষ দক্ষতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত আইজিপিরা এই বিশেষ শাখাগুলোরও নেতৃত্ব দেন।
- সাইবার ক্রাইম: একজন অতিরিক্ত আইজিপি (সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম) দেশের ডিজিটাল অপরাধ নিয়ন্ত্রণে নীতি নির্ধারণ করেন।
- গোয়েন্দা তথ্য সমন্বয়: পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) বা এসবির মতো গোয়েন্দা সংস্থার কাজ সমন্বয় করেন।
- বড় মাপের নিরাপত্তা: জাতীয় নির্বাচন, সার্ক বা বিমসটেক সম্মেলনের মতো বড় ইভেন্টে সুরক্ষার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে থাকেন অগ্রগণ্য ভূমিকায়।
সত্যি বলতে, অতিরিক্ত আইজিপি পদের গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। একজন আইজিপি হয়তোবা পুলিশের নীতি নির্ধারণ করেন, কিন্তু সেই নীতি বাস্তবায়নের পুরো দায়িত্ব কিন্তু এই অতিরিক্ত আইজিপিদের কাঁধেই।
পুলিশ বাহিনীতে অতিরিক্ত আইজিপি কিভাবে হন?
একজন পুলিশ কর্মকর্তা সরাসরি অতিরিক্ত আইজিপি হন না। প্রথমে তিনি সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) হিসেবে যোগ দেন। তারপর পুলিশ সুপার (এসপি), তারপর ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) এই পর্যায়গুলো পেরিয়ে অবশেষে তিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদে উন্নীত হন। এই পথটি দীর্ঘ। সাধারণত কমপক্ষে ২০-২৫ বছরের চাকরি জীবনের পর একজন পুলিশ কর্মকর্তা এই পদে পৌঁছান। তবে মেধা, দক্ষতা এবং বিশেষ কৃতিত্বের ভিত্তিতে কেউ কেউ দ্রুতও এগিয়ে যেতে পারেন।
তবে একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার: সব ডিআইজিই যে অতিরিক্ত আইজিপি হবেন, তেমন কোনো নিয়ম নেই। পদোন্নতি নির্ভর করে সরকারের সিনিয়রিটি পলিসি, ফাঁকা পদের সংখ্যা এবং কর্মকর্তার কার্যক্ষমতার ওপর।
দায়িত্বের ধরন: বলিষ্ঠতা ও কূটনীতি
অতিরিক্ত আইজিপিকে শুধু শক্ত হাতে অপরাধ দমন করতে হয় না, তাকে হতে হয় একজন দক্ষ কূটনীতিবিদ। উদাহরণ দিই ২০২৪ সালের শেষের দিকে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে সহিংসতা এড়াতে পুলিশ কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। তখন ডিএমপি কমিশনার (যিনি অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার) শুধু পুলিশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেননি, বরং আয়োজকদের সাথে বসে সমঝোতা করে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ শেষ করেছিলেন। এটি একটি উদাহরণ যে একজন অতিরিক্ত আইজিপি’র কাজ কেবল লাঠি চালানো নয়, বুদ্ধিমত্তার সাথে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করাও।
অর্থাৎ, অতিরিক্ত আইজিপি’র দায়িত্ব খুবই বিচিত্র একদিকে যেমন তাকে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হয়, অন্যদিকে তাকে হতে হয় একজন দক্ষ প্রশাসক ও নীতি-নির্ধারক।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
অতিরিক্ত আইজিপি কী করেন?
অতিরিক্ট আইজিপি মূলত আইজিপি’র অধীনস্থ একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। তিনি পুলিশের প্রশাসন, অপারেশন, অপরাধ তদন্ত এবং বিভিন্ন বিশেষ শাখা (যেমন সিআইডি, ডিবি) পরিচালনা করেন। বিভিন্ন প্রদেশে (রেঞ্জ) তিনি রেঞ্জ ডিআইজি বা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
অতিরিক্ত আইজিপি এবং ডিআইজি-র মধ্যে পার্থক্য কী?
ডিআইজি (ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল) একটি পদ, আর অতিরিক্ত আইজিপি একটি উচ্চতর গ্রেড। একজন ডিআইজি সাধারণত একটি রেঞ্জের প্রধান হন, কিন্তু অনেক সময় রেঞ্জ ডিআইজি পদমর্যাদায় অতিরিক্ত আইজিপি থাকেন। অতিরিক্ত আইজিপি সরাসরি আইজিপির সাথে কাজ করেন এবং বড় নীতি নির্ধারণী ভূমিকা পালন করেন।
অতিরিক্ত আইজিপি কত টাকা বেতন পান?
অতিরিক্ট আইজিপিরা বাংলাদেশ সরকারের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা (গ্রেড-১) হিসেবে বেতন পান। ২০২৬ সালের বর্তমান বেতন কাঠামো অনুযায়ী, তাদের মূল বেতন প্রায় ৭৮,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা এবং বিভিন্ন ভাতা, বাসস্থান, গাড়ি ইত্যাদি সুবিধা দেওয়া হয়। তবে সম্প্রতি সরকারি বেতন পুনর্বিন্যাস হয়েছে, তাই সঠিক পরিমাণ বাজেট ঘোষণার উপর নির্ভরশীল।
একজন অতিরিক্ত আইজিপি কি আইজিপির চেয়ে কম ক্ষমতাশালী?
হ্যাঁ, অতিরিক্ত আইজিপি ক্ষমতায় আইজিপির চেয়ে এক ধাপ নিচে। আইজিপি পুরো পুলিশ বাহিনীর প্রধান, যেখানে অতিরিক্ত আইজিপি নির্দিষ্ট বিভাগ বা অঞ্চলের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। তবে নিজ নিজ এলাকায় একজন অতিরিক্ত আইজিপি প্রায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন এবং তার সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়।
অতিরিক্ত আইজিপি কয়টি এবং কোন কোন শাখায় থাকে?
বাংলাদেশ পুলিশে সাধারণত ১৫-২০ জন অতিরিক্ত আইজিপি থাকেন। তারা পাঁচটি প্রধান শাখায় বিভক্ত: প্রশাসন, অপারেশন, ক্রাইম (অপরাধ), রেঞ্জ এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ। এছাড়াও সিআইডি, পিবিআই, ট্রাফিক গভর্ন্যান্স, সাইবার ক্রাইম ইত্যাদি বিশেষ শাখায়ও অতিরিক্ত আইজিপি নিয়োজিত থাকেন।
অতিরিক্ত আইজিপির কাছ থেকে সরাসরি অভিযোগ জানানো যায়?
হ্যাঁ, যায়। যে কোনো নাগরিক চাইলে পুলিশের কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি বরাবর পাঠাতে পারেন। তবে সাধারণত স্থানীয় থানা, এসপি অফিস বা ডিআইজি অফিস হয়ে অভিযোগ ওঠে। গুরুতর অভিযোগ সরাসরি অতিরিক্ত আইজিপি অফিসে পাঠানো যেতে পারে।
অতিরিক্ত আইজিপি কীভাবে নিয়োগ পান?
অতিরিক্ত আইজিপি পদের নিয়োগ হয় পুলিশের অভ্যন্তরীণ পদোন্নতির মাধ্যমে। বিসিএস পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তারা প্রথমে এএসপি, তারপর এসপি ও ডিআইজি হন। এরপর তাদের মধ্যে থেকে সিনিয়র এবং মেধাবীদের এই পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।
তথ্যসূত্র:
বাংলাদেশ পুলিশ
বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
বাংলাদেশ পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (BPSC)