এম এল এস এস পদের কাজ কি? বিস্তারিত দায়িত্ব ও নিয়ম

সরকারি চাকরির জগতে “এম এল এস এস” বা “অফিস সহায়ক” পদটি একটি অতি পরিচিত নাম। কিন্তু এই পদের কাজ কী, দায়িত্ব কতটুকু, এবং ক্যারিয়ার কেমন এই বিষয়গুলো নিয়ে অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে। আসলে, এম এল এস এস (MLSS) পদের কাজ হলো সরকারি অফিসে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন কাজকর্মে হাত লাগানো, অফিসের নানা রকম সহায়ক কাজ করে দেওয়া। সত্যি বলতে, কোনো অফিসের প্রাণচাঞ্চল্য বজায় রাখতে এই পদের কর্মীদের ভূমিকা অপরিসীম।

এই আর্টিকেলে আমরা এম এল এস এস পদের কাজ কি? তা সম্পর্কে খুঁটিনাটি সবকিছু নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আলোচনা করব। সরকারি নিয়মকানুন, বেতন, কাজের ধরন, পদোন্নতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া সবকিছু আলোচনা করব।

এম এল এস এস কী? পূর্ণ রূপ ও ইতিহাস

প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক এম এল এস এস নামটির অর্থ কী? এম এল এস এস (MLSS)-এর পূর্ণ রূপ হলো Member of Lower Subordinate Staff। বাংলায় একে বলে “নিম্ন অধস্তন কর্মচারী সদস্য”। এই পদের একটা সমৃদ্ধ ইতিহাস আছে।

ব্রিটিশ শাসনামল থেকেই সরকারি অফিসে “পিয়ন”, “দফতরি”, “চাপরাশি”, “আর্দালি” – এই ধরনের নামে কর্মীরা কাজ করতেন। তাদের কাজ ছিল মূলত বার্তা পৌঁছে দেওয়া, অফিস পরিষ্কার রাখা এবং কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সহায়তা করা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই পদগুলোর নাম এবং কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

২০১৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিপত্র জারি করা হয়। সেই পরিপত্রের মাধ্যমেই চতুর্থ শ্রেণির ৩৪টি পদের নাম পরিবর্তন করে “অফিস সহায়ক” নামে একটি অভিন্ন পদ সৃষ্টি করা হয়। এর মধ্যে এমএলএসএস, পিয়ন, দফতরি, চাপরাশি, আর্দালি সব পদ একীভূত হয়ে যায়। এই ব্যাপারটা অনেকেই জানেন না যে, বর্তমানে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে “এমএলএসএস” এবং “অফিস সহায়ক” – এই দুই নামই ব্যবহার করা হয়। একটু ভেবে দেখলে বুঝবেন, এগুলো আসলে একই পদের দুটি ভিন্ন নাম মাত্র।

অফিস সহায়ক এমএলএসএস এর কাজ কি

এখন মূল প্রশ্নে আসি। এই পদের কাজের পরিধি অনেক বড়। নিচে পর্যায়ক্রমে কাজগুলো তুলে ধরা হলো।

১. অফিসের ভেতরে সহায়তামূলক কাজ

  • অফিসের আসবাবপত্র এবং রেকর্ডসমূহ সুন্দরভাবে সাজানো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।
  • অফিসের ফাইল এবং কাগজপত্র উর্ধ্বতনের নির্দেশ অনুযায়ী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা অন্য অফিসে পৌঁছে দেওয়া।
  • প্রয়োজন অনুসারে হালকা আসবাবপত্র অফিসের ভেতরে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া।
  • অফিস কক্ষ, বারান্দা ও অফিসের আশেপাশের জায়গা পরিষ্কার রাখা – তবে শুধু মাত্র অফিস পরিচ্ছন্নতার অংশ হিসেবে।

২. কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগত সহায়তা

  • কর্মকর্তাদের জন্য চা, নাশতা ও পানীয় পরিবেশন করা – এটি একটি নিয়মিত দায়িত্ব।
  • কর্মকর্তার নির্দেশে চিঠিপত্র, নথি, ফাইল ও ডাকসামগ্রী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
  • প্রয়োজনে বাইরের কাজে সহায়তা করা – যেমন ব্যাংক, অন্য দপ্তর বা কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানায় নথি পৌঁছে দেওয়া।

৩. অফিস রক্ষণাবেক্ষণ

  • অফিস খোলার আগে কক্ষ প্রস্তুত করা এবং অফিস বন্ধের পর সবকিছু গুছিয়ে রাখা।
  • অফিসের পতাকা উত্তোলন ও নামানো (যেখানে প্রযোজ্য)।
  • অফিসের নানা সরঞ্জাম সংগ্রহ ও সংরক্ষণে সহায়তা করা।

৪. যোগাযোগ ও বার্তাবাহী কাজ

  • অফিসের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
  • দাপ্তরিক চিঠি, নথি ও কাগজপত্র সঠিক সময়ে সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা।
  • সরকারি ডাক ও রেজিস্ট্রি সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ করা।

একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: একজন অফিস সহায়ককে শুধু অফিস-সংক্রান্ত কাজই করতে হবে। তাকে ঝাড়ুদারের কাজ বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর (ম্যাথর) কাজ করতে বাধ্য করা যাবে না। এটি সরকারি নিয়মের একটি স্পষ্ট নির্দেশনা।

এম এল এস এস পদের মূল তথ্য এক নজরে

বিষয়তথ্য
পদের আনুষ্ঠানিক নামঅফিস সহায়ক (Office Sahayak)
পদের পুরনো নামএমএলএসএস, পিয়ন, চাপরাশি, দফতরি
MLSS পূর্ণ রূপMember of Lower Subordinate Staff
চাকরির শ্রেণিচতুর্থ শ্রেণি
বেতন গ্রেড২০তম গ্রেড
মূল বেতন (জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫)৮,২৫০ – ২০,০১০ টাকা
ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতাএসএসসি বা সমমান
কর্মঘণ্টা৮ ঘণ্টা (সরকারি অফিস সময়)
নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষসংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় / দপ্তর / অধিদপ্তর
পদোন্নতিঅফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে

এম এল এস এস পদের বেতন কত?

আর্থিক দিক থেকে দেখলে, এম এল এস এস বা অফিস সহায়ক পদটি ২০তম গ্রেডের চাকরি। জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী বেতন কাঠামোটি নিচে দেওয়া হলো:

  • মূল বেতন: ৮,২৫০ টাকা (শুরু) থেকে ২০,০১০ টাকা (সর্বোচ্চ)
  • মাসিক সাকুল্য বেতন: মূল বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা যুক্ত করে গড়ে ১৪,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকার মতো হয়।
  • এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারি অংশ এবং প্রতিষ্ঠান অংশ মিলিয়ে বেতন কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।

এছাড়াও, একজন অফিস সহায়ক পেনশন, ঈদ বোনাস, এবং অতিরিক্ত কাজের জন্য অধিকাল ভাতা পাওয়ার সুবিধা পান। খেয়াল রাখবেন, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সেটি কার্যকর হলে বেতন আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এম এল এস এস / অফিস সহায়ক পদে নিয়োগের যোগ্যতা

এই পদে আবেদন করতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হবে। নিচে সেগুলো বিস্তারিত দেওয়া হলো।

শিক্ষাগত যোগ্যতা

যে কোনো স্বীকৃত বোর্ড থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (SSC) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। এটাই ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা।

বয়সসীমা

সাধারণত ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে হতে হবে। তবে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোটা অনুসারে (মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, প্রতিবন্ধী, ইত্যাদি) বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

শারীরিক যোগ্যতা

সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। চাকরির প্রকৃতি অনুযায়ী শারীরিকভাবে সক্ষম হওয়া জরুরি।

পরীক্ষার ধরন

লিখিত পরীক্ষায় সাধারণত অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক) থেকে প্রশ্ন করা হয়। অনেকেই মনে করেন পরীক্ষা কঠিন হয়, কিন্তু আসলে পরীক্ষার মান সাধারণত খুব কঠিন হয় না। তবে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি থাকে।

এম এল এস এস পদ থেকে পদোন্নতির সুযোগ আছে কি?

এই প্রশ্নটা প্রায় সব চাকরিপ্রার্থীরই থাকে। উত্তর হলো – হ্যাঁ, অবশ্যই পদোন্নতির সুযোগ রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা ও যোগ্যতা থাকলে একজন অফিস সহায়ক থেকে শুরু করে উচ্চতর পদে পৌঁছানো সম্ভব।

পদোন্নতির ধাপ

  1. ধাপ ১: অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) – এটি প্রাথমিক পদ।
  2. ধাপ ২: কমপক্ষে ৫-৭ বছর সন্তোষজনক চাকরি করার পর প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অর্জন করতে হবে।
  3. ধাপ ৩: বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
  4. ধাপ ৪: এরপর পদোন্নতি পেয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গ্রেড-১৬) পদে যাওয়া সম্ভব।

পদোন্নতির জন্য কী কী লাগে?

  • কমপক্ষে ৫ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা।
  • এইচএসসি বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলে ভালো হয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে স্নাতক ডিগ্রিও চাওয়া হয়।
  • কম্পিউটার টাইপিং দক্ষতা (বাংলা ও ইংরেজি) – এটি প্রায় বাধ্যতামূলক। সত্যি বলতে, এখনকার সময়ে অফিসের সব কাজেই কম্পিউটার লাগে।
  • কর্মক্ষেত্রে ভালো রেকর্ড ও কর্মদক্ষতা থাকা জরুরি।

একটি টিপস: যদি পদোন্নতি পেতে চান, তাহলে এখনই কম্পিউটার টাইপিং এবং বেসিক অফিস সফটওয়্যার শেখা শুরু করুন। এটি আপনার পদোন্নতির পথ অনেক সহজ করে দেবে।

এম এল এস এস পদে চাকরির সুবিধা-অসুবিধা

যেকোনো চাকরির মতোই এই পদেরও কিছু ভালো দিক আছে, আবার কিছু চ্যালেঞ্জও আছে। সেগুলো জেনে রাখা ভালো।

সুবিধাসমূহ

  • সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব।
  • পেনশন ও অবসর সুবিধা – যা বেসরকারি চাকরিতে খুব কমই মেলে।
  • ঈদ বোনাস ও উৎসব ভাতা।
  • চিকিৎসা ও বাড়ি ভাড়া ভাতা।
  • পদোন্নতির মাধ্যমে ক্যারিয়ার এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ।
  • সরকারি ছুটি ও নৈমিত্তিক ছুটির সুবিধা।
  • কোনো কোনো দপ্তরে সরকারি আবাসন (কোয়ার্টার) পাওয়ার সুযোগ থাকে।

চ্যালেঞ্জসমূহ

  • শুরুতে বেতন তুলনামূলকভাবে কম হয়।
  • কখনো কখনো অফিসের বাইরের অনানুষ্ঠানিক কাজ করতে বলা হতে পারে।
  • উচ্চতর পদোন্নতির সুযোগ তুলনামূলকভাবে সীমিত। তবে এটি সম্পূর্ণ নিজের দক্ষতা এবং সুযোগের উপর নির্ভর করে।

সরকারি পিয়নের দায়িত্ব সংক্রান্ত পরিপত্র কী বলে?

অনেকেই জানতে চান, এ বিষয়ে সরকারের কোনো স্পষ্ট নির্দেশনা আছে কিনা। জবাব হলো – আছে। সরকারি চাকরি ও সাধারণ প্রশাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ শাখা থেকে ২৯ অক্টোবর ১৯৬৯ তারিখে (স্মারক নং সংখ্যা ১) জারি করা একটি পরিপত্রে সরকারি পিয়নদের (এখনকার অফিস সহায়ক) দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী দায়িত্বগুলো হলো:

  1. অফিসের আসবাবপত্র ও রেকর্ড সুন্দরভাবে বিন্যাস ও পরিষ্কার রাখা।
  2. অফিসের ফাইল ও কাগজপত্র নির্দেশক্রমে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বা অন্য অফিসে পাঠানো।
  3. হালকা আসবাবপত্র অফিসের মধ্যে প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানান্তর করা।
  4. অফিস চালু থাকাকালীন সার্বক্ষণিক উপস্থিত ও প্রস্তুত থাকা।
  5. কর্মকর্তার নির্দেশিত যেকোনো দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করা।

এই পরিপত্রের মূল বার্তা হলো – অফিস কর্তৃপক্ষ অফিসের প্রয়োজনে যেকোনো দাপ্তরিক কাজ করাতে পারবেন, তবে ঝাড়ুদার বা পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করাতে পারবেন না। এই নিয়মটা অনেক অফিসেই মানা হয় না, কিন্তু এটি একটি স্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা।

কোন কোন সরকারি প্রতিষ্ঠানে এম এল এস এস পদে নিয়োগ হয়?

বাংলাদেশের প্রায় সব ধরনের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানেই এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিছু উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠানের নাম নিচে দেওয়া হলো:

  • সকল সরকারি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ
  • জেলা প্রশাসনের অধীনে বিভিন্ন দপ্তর
  • সরকারি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
  • এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
  • বাংলাদেশ ডাক বিভাগ
  • পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর
  • স্বাস্থ্য অধিদপ্তর
  • কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর
  • বিভিন্ন সরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান

মূলত, যেকোনো সরকারি অফিসেই এই পদের চাহিদা আছে। আর এই পদের কাজের ধরন প্রায় একই রকম হয়, প্রতিষ্ঠানভেদে সামান্য পরিবর্তন থাকতে পারে।

আপনার যদি আগ্রহ থাকে, তাহলে আয়া পদের কাজ কি? এবং উচ্চমান সহকারী পদের কাজ কি? এই আর্টিকেলগুলো পড়ে দেখতে পারেন। এগুলো থেকেও সরকারি চাকরির নানা পদ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

এম এল এস এস পরীক্ষার প্রস্তুতি কীভাবে নেবেন?

পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য একটি পরিকল্পিত পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। নিচে ধাপে ধাপে প্রস্তুতির উপায় দেওয়া হলো।

ধাপ ১: বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনা

  • বাংলা: ব্যাকরণ (সন্ধি, সমাস, বাগধারা), বাংলাদেশের সাহিত্য, রচনা।
  • ইংরেজি: Grammar (Tense, Parts of Speech, Preposition), সহজ vocabulary, অনুবাদ।
  • গণিত: ভগ্নাংশ, শতকরা, সরল সমীকরণ, ক্ষেত্রফল ও আয়তন।
  • সাধারণ জ্ঞান: বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, ভূগোল, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী এবং আন্তর্জাতিক বিষয়াবলী।

ধাপ ২: বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান

বিগত বছরের প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো সমাধান করুন। এতে করে পরীক্ষার ধরন ও প্রশ্নের মান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। অনলাইনে বা বাজারে বিগত বছরের প্রশ্নের বই পাওয়া যায়।

ধাপ ৩: নিয়মিত অনুশীলন

প্রতিদিন অন্তত ১-২ ঘণ্টা পড়াশোনা করুন। সপ্তাহে অন্তত একটি মক টেস্ট দেওয়ার চেষ্টা করুন। এতে সময় ব্যবস্থাপনার অভ্যাস গড়ে উঠবে।

ধাপ ৪: শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি

মৌখিক পরীক্ষার জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ান। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে উপস্থিত হওয়া এবং সঠিক উচ্চারণে উত্তর দেওয়া জরুরি। শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত ব্যায়াম করুন।

শেষ কথা

এম এল এস এস বা অফিস সহায়ক পদটি বাংলাদেশ সরকারের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চাকরির পদ। মাঠ পর্যায়ের অফিস থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় পর্যন্ত প্রতিটি সরকারি অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করতে এই পদের কর্মীদের ভূমিকা অপরিহার্য। কোনো কাজই ছোট নয়। সততা, নিষ্ঠা এবং দক্ষতার সাথে কাজ করলে পদোন্নতির মাধ্যমে ক্যারিয়ারকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আর যারা এই পদে আবেদন করতে চান, তাদের উচিত নিয়মিত সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির দিকে নজর রাখা এবং সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

এম এল এস এস এর পূর্ণ রূপ কী?

MLSS-এর পূর্ণ রূপ হলো Member of Lower Subordinate Staff। বাংলায় একে “নিম্ন অধস্তন কর্মচারী সদস্য” বলা হয়।

এমএলএসএস এখন কোন নামে পরিচিত?

২০১৪ সালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী এমএলএসএস পদের নতুন আনুষ্ঠানিক নাম হয়েছে “অফিস সহায়ক”। বর্তমানে সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে উভয় নামই ব্যবহার করা হয়।

এম এল এস এস পদের বেতন কত?

জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী অফিস সহায়ক (এমএলএসএস) পদের মূল বেতন ৮,২৫০ থেকে ২০,০১০ টাকা (গ্রেড-২০)। সব ভাতা মিলিয়ে মাসিক সাকুল্য বেতন ১৪,০০০ – ১৫,০০০ টাকার মতো হয়।

অফিস সহায়ক কততম গ্রেডের চাকরি?

অফিস সহায়ক বা এমএলএসএস পদটি ২০তম গ্রেড এবং এটি চতুর্থ শ্রেণির সরকারি চাকরি হিসেবে গণ্য হয়।

এমএলএসএস পদে নিয়োগের জন্য কী কী লাগে?

এসএসসি বা সমমান পাস, সুস্বাস্থ্য এবং নির্ধারিত বয়সসীমা (সাধারণত ১৮-৩০ বছর) পূরণ করতে হবে। কোটা অনুযায়ী বয়সসীমা শিথিলযোগ্য।

অফিস সহায়ক থেকে কি পদোন্নতি হয়?

হ্যাঁ, পদোন্নতি হয়। সাধারণত ৫-৭ বছর কাজ করার পর, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কম্পিউটার দক্ষতা থাকলে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গ্রেড-১৬) পদে পদোন্নতি পাওয়া সম্ভব।

এমএলএসএস পদে কর্মঘণ্টা কত?

নির্ধারিত কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টা। যদি অতিরিক্ত কাজ করানো হয়, তাহলে অধিকাল ভাতা পাওয়ার অধিকার আছে।

পিয়ন ও এমএলএসএস কি একই পদ?

হ্যাঁ, পিয়ন ও এমএলএসএস মূলত একই ধরনের পদ ছিল। ২০১৪ সালের পরিপত্রে এই দুটোকে একত্রিত করে “অফিস সহায়ক” নামকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে এরা একই পদবীধারী।

তথ্যসূত্র:
  • জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৪
  • সরকারি চাকুরী ও সাধারণ প্রশাসন বিভাগের স্মারক, ২৯ অক্টোবর ১৯৬৯
  • জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ (গ্রেড-২০)

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *