এভারকেয়ার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট
এভারকেয়ার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট থেকে চিকিৎসক বাছাই করতে হলে আগে রোগের ধরন অনুযায়ী বিভাগ নির্বাচন করুন। হৃদরোগে কার্ডিওলজি, কিডনি সমস্যায় নেফ্রোলজি, পেটের সমস্যায় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং শিশুর সমস্যায় পেডিয়াট্রিক্স বিভাগ উপযুক্ত হতে পারে। এই তালিকায় এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকার বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদের নাম, ডিগ্রি, পদবি ও বিশেষায়িত চিকিৎসাক্ষেত্র দেওয়া হলো।
হাসপাতালের ঠিকানা হিসেবে প্রদত্ত তথ্য হলো ঢাকা। হাসপাতালটি প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। তবে বহির্বিভাগের চিকিৎসকের চেম্বার, অ্যাপয়েন্টমেন্ট ও সেবার সময় আলাদা হতে পারে। ২০২৬ সালে যাওয়ার আগে হাসপাতালের অফিসিয়াল যোগাযোগমাধ্যমে সময়সূচি যাচাই করা জরুরি।
এভারকেয়ার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট থেকে কোন বিভাগ বেছে নেবেন?
রোগের প্রধান উপসর্গ এবং চিকিৎসার প্রয়োজন অনুযায়ী বিভাগ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। শুধু ডিগ্রি বা পদবি দেখে নয়, চিকিৎসকের নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্র মিলিয়ে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
| সমস্যা বা উপসর্গ | প্রাসঙ্গিক বিভাগ | তালিকায় থাকা বিশেষায়িত ক্ষেত্র |
|---|---|---|
| বুকব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, হার্ট ফেইলিওর | হৃদরোগ বিভাগ | কার্ডিওলজি, ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম |
| কিডনি দুর্বলতা, ডায়ালাইসিস, প্রস্রাবের জটিলতা | নেফ্রোলজি বা ইউরোলজি | কিডনি রোগ, ডায়ালাইসিস, কিডনি প্রতিস্থাপন, প্রোস্টেট ও মূত্রাশয় |
| পেটব্যথা, লিভার বা পিত্তথলির সমস্যা | গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি | পেট, অন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও অগ্ন্যাশয় |
| জ্বর, দীর্ঘদিনের দুর্বলতা, একাধিক সাধারণ অসুস্থতা | মেডিসিন | ইন্টারনাল মেডিসিন, ডায়াবেটিস, রিউমাটোলজি ও নেফ্রোলজি |
| শিশুর জ্বর, নবজাতকের সমস্যা, শিশুর খিঁচুনি | শিশুরোগ বা পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি | নবজাতক, শিশু কিডনি, শিশু সার্জারি, মৃগীরোগ ও বিকাশজনিত সমস্যা |
| হাড়ের ব্যথা, আঘাত, জয়েন্ট বা মেরুদণ্ডের সমস্যা | অর্থোপেডিক্স | ট্রমা, স্পাইন সার্জারি, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট ও আর্থ্রোস্কোপি |
উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কিডনি রোগের চিকিৎসা এবং কিডনি বা মূত্রনালির অস্ত্রোপচার একই বিষয় নয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে নেফ্রোলজি বিভাগ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আবার কিডনিতে পাথর বা প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে ইউরোলজি বিভাগ বেশি উপযোগী হতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চিকিৎসকের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে।
আরও জেনে নিনঃ ফার্মাসিস্ট এর কাজ কি
মেডিসিন ও বক্ষব্যাধির চিকিৎসকদের তালিকা কী?
মেডিসিন বিভাগে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ ও জটিল রোগের প্রাথমিক মূল্যায়ন করা হয়। তালিকায় কিডনি রোগ, ডায়াবেটিস, রিউমাটোলজি এবং শ্বাসযন্ত্রের সমস্যায় অভিজ্ঞ চিকিৎসকরাও রয়েছেন।
- ডাঃ তাবাসসুম সামাদ: এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), এফসিপিএস (নেফ্রোলজি)। কনসালটেন্ট, নেফ্রোলজি বিভাগ। কিডনি রোগ ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ অনিতা মারিয়াম ইসলাম: এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), সিসিডি (বারডেম)। মেডিসিন, বার্ধক্যজনিত চিকিৎসা, ডায়াবেটিস ও রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ।
- অধ্যাপক ডাঃ রওশনে জাহান: এমবিবিএস (ডিএমসি), এমডি (বুকের রোগ), ডিটিসিডি, এফসিসিপি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)। বুকের রোগ, শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসা ও ইন্টারভেনশনাল পালমোনোলজি বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ কেএফএম আয়াজ: এমবিবিএস, এমএসসি (বায়োমেডিসিন), এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন), এফএসিপি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)। মেডিসিন ও রিউমাটোলজি বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ নিখাত শাহলা আফসার: এমবিবিএস, এমডি (ইন্টারনাল মেডিসিন)। প্রাপ্তবয়স্কদের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ বোরহান উদ্দিন আহমদ: এমবিবিএস (ডিএমসি), এমআরসিপি (যুক্তরাজ্য)। প্রাপ্তবয়স্কদের সকল রোগের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ মোঃ সাদিকুল ইসলাম: এমবিবিএস, এফসিপিএস (মেডিসিন), পিজিটি (রিউমাটোলজি)। বাত, ব্যথা, গেঁটেবাত ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ জিয়াউল হক: এমবিবিএস (ডিএমসি), এমআরসিপি (যুক্তরাজ্য), এফসিসিপি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)। বুকের রোগ, হাঁপানি ও শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ এস এম আবদুল্লাহ আল মামুন: এমবিবিএস (ডিএমসি), এমডি (চেস্ট), এমসিপিএস (মেডিসিন), এফআরসিপি (এডিনবার্গ), এফসিসিপি (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র)। বুকের রোগ ও শ্বাসযন্ত্রের চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ।
হৃদরোগ ও কার্ডিয়াক সার্জারির চিকিৎসক কারা?
বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের ক্ষেত্রে কার্ডিওলজি বিভাগে পরামর্শ নেওয়া যায়। তালিকায় নন-ইনভেসিভ কার্ডিওলজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম, হার্ট ফেইলিওর, ইলেক্ট্রোফিজিওলজি ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজির চিকিৎসক আছেন।
- ডাঃ নিঘাট ইসলাম: এমবিবিএস (ডিএমসি), এমডি (কার্ডিওলজি-এনআইসিভিডি)। নন-ইনভেসিভ কার্ডিওলজি ও ইকোকার্ডিওগ্রাম বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ তাহেরা নাজরিন: এমবিবিএস (এসএসএমসি), ডিসিএইচ (বিআইসিএইচ), এফসিপিএস (শিশু)। ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজিস্ট।
- অধ্যাপক ডাঃ একিউএম রেজা: এমবিবিএস, এমডি (কার্ডিওলজি)। ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ শামস মুনওয়ার: এমবিবিএস, এমআরসিপি (ইউকে), ডি-কার্ড (লন্ডন)। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও বাতজ্বর বিশেষজ্ঞ।
- অধ্যাপক ডাঃ মোঃ আতাহার আলী: এমবিবিএস, এফসিপিএস (ইন্টারনাল মেডিসিন), এমডি (কার্ডিওলজি)। কার্ডিয়াক ইলেক্ট্রোফিজিওলজি, হার্ট ফেইলিওর ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ।
- অধ্যাপক ডাঃ এএইচএম ওয়ালিউল ইসলাম: এমবিবিএস, পিএইচডি (জাপান), এফআরসিপি (গ্লাসগো)। ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ।
- অধ্যাপক ডাঃ তামজীদ আহমেদ: এমবিবিএস, এমআরসিপি (ইউকে), এফআরসিপি, এফএসিসি, এফএসসিএআই। ক্লিনিক্যাল ও ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ।
- অধ্যাপক ডাঃ শাহাবুদ্দিন তালুকদার: এমবিবিএস, ডি-কার্ড (ডিইউ), এফসিপিএস (মেডিসিন)। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, বাতজ্বর ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ কাজী আতিকুর রহমান: এমবিবিএস, এমডি (কার্ডিওলজি), এমআরসিপি (যুক্তরাজ্য)। হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও বাতজ্বর বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ সোহেল আহমেদ: এমবিবিএস, এমসিপিএস (সার্জারি), এমএস (সিভিটিএস)। কার্ডিওভাসকুলার ও থোরাসিক সার্জারি বিশেষজ্ঞ।
- ডাঃ মোঃ জুলফিকুর হায়দার: এমবিবিএস, এমএস (সিভিটিএস)। কার্ডিওথোরাসিক ও ভাস্কুলার সার্জারি বিশেষজ্ঞ।
কিডনি, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি ও ইউরোলজি বিভাগের ডাক্তার কারা?
কিডনি রোগে নেফ্রোলজিস্ট সাধারণত কিডনির কার্যক্ষমতা, ডায়ালাইসিস ও কিডনি বায়োপসি নিয়ে কাজ করেন। ইউরোলজিস্ট কিডনি, মূত্রনালি, মূত্রাশয় ও প্রোস্টেটের অস্ত্রোপচার বা প্রক্রিয়াভিত্তিক চিকিৎসায় যুক্ত থাকেন।
- কিডনি রোগ: ডাঃ ফাহমিদা বেগম, ডাঃ এবাদুর রহমান এবং অধ্যাপক ডাঃ মাসুম কামাল খান। তাঁদের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের মধ্যে নেফ্রোলজি, ডায়ালাইসিস, ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি, হেমোডায়ালাইসিস ও কিডনি বায়োপসি রয়েছে।
- গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি: অধ্যাপক ডাঃ সায়েদা রহিম, অধ্যাপক ডাঃ শায়লা পারভীন, ডাঃ ইকবাল মুর্শেদ কবির, অধ্যাপক ডাঃ হাফেজা আফতাব (রোজি) এবং ডাঃ লুৎফুল এল. চৌধুরী। তাঁরা পেট, অন্ত্র, লিভার, পিত্তথলি ও অগ্ন্যাশয়ের রোগে বিশেষজ্ঞ।
- ইউরোলজি: অধ্যাপক কর্নেল ডাঃ এম এ রাকিব, ডাঃ এম. জাহিদ হাসান এবং অধ্যাপক ডাঃ এটিএম মওলাদাদ চৌধুরী। তালিকায় ইউরোলজি, কিডনি প্রতিস্থাপন, লেজার প্রযুক্তি, প্রোস্টেট ও ইউরো-অনকোলজিক্যাল সার্জারির অভিজ্ঞতা উল্লেখ আছে।
লিভারের রোগ বা দীর্ঘদিনের পেটের সমস্যায় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি উপযোগী হতে পারে। প্রস্রাবে রক্ত, কিডনিতে পাথর বা প্রোস্টেটের সমস্যায় ইউরোলজি বিবেচনা করা হয়। তীব্র ব্যথা, প্রচুর রক্তপাত বা প্রস্রাব বন্ধ হয়ে গেলে অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
শিশু, নিউরোলজি ও নিউরোসার্জারির ডাক্তারদের তালিকা কী?
শিশুর বয়স এবং সমস্যার ধরন অনুযায়ী পেডিয়াট্রিক্স, পেডিয়াট্রিক কার্ডিওলজি, পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বা পেডিয়াট্রিক সার্জারি বেছে নেওয়া যায়।
- শিশুরোগ: ডাঃ সাবিনা সুলতানা, অধ্যাপক ডাঃ এম. ইসতিয়াক হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ শহীদ করিম, ডাঃ নুসরাত ফারুক, ডাঃ এম. কামরুল হাসান, ডাঃ আবু সাঈদ মোহাম্মদ ইকবাল এবং ডাঃ ফাহমিদা জাবীন। বিশেষায়িত ক্ষেত্রের মধ্যে নবজাতক, শিশু কিডনি, শিশু সার্জারি, শিশু ইউরোলজি, নবজাতক আইসিইউ ও শিশু এন্ডোক্রিনোলজি রয়েছে।
- শিশু বিকাশ ও স্নায়ু: ডাঃ ফারজানা ইসলাম শিশু মানসিক স্বাস্থ্য, বিকাশ ও স্নায়ু বিষয়ে কাজ করেন। ডাঃ সারওয়ার জাহান ভূঁইয়া পেডিয়াট্রিক নিউরোলজিতে মৃগীরোগ, অটিজম, মাথাব্যথা ও চলাচলের ব্যাধি দেখেন।
- নিউরোসার্জারি ও নিউরোলজি: অধ্যাপক কর্নেল ডাঃ মোঃ আমিনুল ইসলাম, ডাঃ এস এম হাসান শাহরিয়ার, অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জিল্লুর রহমান, ডাঃ মোঃ আলীউজ্জামান জোয়ারদার, ডাঃ সন্দীপ কুমার দাস, ডাঃ খন্দকার মাহবুবর রহমান এবং অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল কাদের শেখ। তালিকায় স্ট্রোক, মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, ব্রেন টিউমার, মাইগ্রেন, মৃগীরোগ ও মাইক্রো-নিউরোসার্জারির ক্ষেত্র উল্লেখ আছে।
অন্য বিভাগগুলোর চিকিৎসকদের নাম কী?
এভারকেয়ার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্টে সার্জারি, ক্যান্সার, চর্মরোগ, স্ত্রীরোগ, চক্ষু, ইএনটি, ডেন্টাল ও পুনর্বাসনসহ একাধিক বিভাগ রয়েছে। সংক্ষিপ্ত বিভাগভিত্তিক তালিকা নিচে দেওয়া হলো।
- ক্যান্সার: অধ্যাপক ডাঃ রাজু তিতাস চাকো, ডাঃ আরমান রেজা চৌধুরী, ডাঃ ফেরদৌস শাহরিয়ার সাঈদ এবং ডাঃ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য। বিশেষায়িত ক্ষেত্রের মধ্যে মেডিকেল অনকোলজি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, হরমোন থেরাপি, ইমিউনোথেরাপি ও প্যালিয়েটিভ মেডিসিন রয়েছে।
- অর্থোপেডিক্স: লেঃ কর্নেল ডাঃ মোঃ জামিল জাইদুর রহিম, ডাঃ মোঃ আতিয়ার রহমান, ডাঃ অমিত কাপুর এবং ডাঃ এম. আলী। তাঁরা ট্রমা, মেরুদণ্ড, জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট, আর্থ্রোস্কোপি ও হাঁটুর সার্জারিতে বিশেষজ্ঞ।
- প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক সার্জারি: ডাঃ এ কে এম ফজলুল হক এবং লেঃ কর্নেল ডাঃ সৈয়দা আসমেমা শশী। তালিকায় পোড়া, পুনর্গঠন, প্রসাধনী ও স্তন সার্জারির ক্ষেত্র উল্লেখ আছে।
- সার্জারি: ডাঃ মোহাম্মদ ফরিদ হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ পি কে সাহা এবং অধ্যাপক ডাঃ শেখ মোঃ আবু জাফর। তাঁদের ক্ষেত্রে জেনারেল, ল্যাপারোস্কোপিক, কোলোরেক্টাল, ক্যান্সার, স্থূলতা ও বিপাকীয় সার্জারি রয়েছে।
- স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা: লে. কর্নেল ডাঃ নার্গিস নাহার, ডাঃ মনোয়ারা বেগম, ডাঃ নাসরিন জুলফিকার, ডাঃ গুলশান আরা এবং ডাঃ মৃণাল কুমার সরকার। উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থা, ল্যাপারোস্কোপি, বন্ধ্যাত্ব ও প্রজনন চিকিৎসা তাঁদের উল্লেখিত ক্ষেত্র।
- চর্মরোগ: ডাঃ রুবাইয়া আলী, অধ্যাপক ডাঃ হাসিবুর রহমান, ডাঃ জেসমিন মনজুর এবং অধ্যাপক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডাঃ কিউএম মাহাবুব উল্লাহ। ত্বক, অ্যালার্জি, চুল, নখ, লেজার ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁদের নাম দেওয়া আছে।
- চক্ষু: অধ্যাপক ডাঃ নাজমুন নাহার এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ডাঃ মো. সায়েদুর রহমান। ভিট্রিও-রেটিনা, চক্ষু ট্রমা, ছানি, গ্লুকোমা, স্কুইন্ট, অরবিটাল ও অকুলোপ্লাস্টিক সার্জারি তাঁদের ক্ষেত্র।
- ইএনটি: ডাঃ এ এফ এম একরামুদ্দৌলা এবং অধ্যাপক ডাঃ মোঃ জিল্লুর রহমান। কান, নাক, গলা এবং মাথা-ঘাড় সার্জারির চিকিৎসা তাঁদের বিশেষায়িত ক্ষেত্র।
- ডেন্টাল ও মুখ-চোয়াল সার্জারি: অধ্যাপক ডাঃ কাজী হাসিনুর রহমান, ডাঃ ফাহমিদা ফেরদৌসী, ডাঃ মোঃ গোলাম রুবি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরী জেনারেল ডাঃ এবং অধ্যাপক ডাঃ মতিউর রহমান মোল্লা। ডেন্টাল, অর্থোডন্টিক্স, প্রোস্থোডন্টিক্স এবং ওরাল-ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি তাঁদের ক্ষেত্র।
- এন্ডোক্রিনোলজি: ডাঃ আহসানুল হক আমিন এবং অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল মান্নান সরকার। ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, হরমোন ও বিপাকীয় সমস্যায় তাঁদের বিশেষজ্ঞতা উল্লেখ আছে।
- অ্যানেস্থেসিওলজি: ডাঃ মোঃ আফতাব উদ্দিন, ডাঃ মোঃ রবিউল আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডাঃ মইনুল হক চৌধুরী, ডাঃ আবু নাসের মুহাম্মদ বদরুদ্দোজা, ডাঃ শ্যামা প্রসাদ মিত্র, ডাঃ লুৎফুল আজিজ, ডাঃ মোঃ আজহারুল ইসলাম এবং ডাঃ হাসিনা আক্তার। অ্যানেস্থেসিয়া, ব্যথা ব্যবস্থাপনা, ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও আইসিইউ তাঁদের কাজের ক্ষেত্র।
- ফিজিক্যাল মেডিসিন ও পুনর্বাসন: ডাঃ মোহাম্মদ মহিউদ্দিন আরাফ তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ব্যবস্থাপনা এবং নিউরো-পুনর্বাসনে বিশেষজ্ঞ।
- রক্তরোগ: ডাঃ আবু জাফর মোহাম্মদ সালেহ রক্তরোগ, রক্ত ক্যান্সার ও স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হিসেবে তালিকাভুক্ত।
ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার সময় কোন ভুল এড়াবেন?
অনলাইনে পাওয়া তালিকা রোগীকে বিভাগ বুঝতে সাহায্য করে। এটি চিকিৎসকের বর্তমান চেম্বার সময়ের বিকল্প নয়। চিকিৎসকের সময়সূচি পরিবর্তিত হতে পারে। যাওয়ার আগে অফিসিয়াল হাসপাতাল সাইটের এভারকেয়ার হাসপাতাল ঢাকার তথ্য যাচাই করুন।
- শুধু নাম দেখে চিকিৎসক বেছে নেবেন না। আপনার সমস্যার সঙ্গে বিশেষায়িত ক্ষেত্র মিলিয়ে নিন।
- একই চিকিৎসক সব ধরনের রোগ দেখেন ধরে নেবেন না। যেমন নেফ্রোলজি ও ইউরোলজি আলাদা চিকিৎসাক্ষেত্র।
- আগের প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট, ওষুধের তালিকা ও অ্যালার্জির তথ্য সঙ্গে নিন।
- শিশুর ক্ষেত্রে শিশুরোগ বিশেষজ্ঞের বদলে প্রাপ্তবয়স্কদের মেডিসিন চিকিৎসক বেছে নেওয়া এড়িয়ে চলুন।
- চেম্বার সময় নিশ্চিত না করে দূর থেকে হাসপাতালে রওনা হবেন না। বিশেষ করে ঢাকার যানজটের কারণে অ্যাপয়েন্টমেন্টের অন্তত কিছু সময় আগে বের হওয়া ভালো।
- বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হওয়া, আকস্মিক পক্ষাঘাত, অতিরিক্ত রক্তপাত বা তীব্র অ্যালার্জির মতো জরুরি লক্ষণে নির্ধারিত চেম্বারের জন্য অপেক্ষা করবেন না। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।
বিশেষজ্ঞ পরামর্শ বাছাইয়ের সহজ নিয়ম
প্রথমে উপসর্গের সময়কাল লিখে রাখুন। এরপর রোগী আগে কোথায় চিকিৎসা নিয়েছেন তা নোট করুন। রিপোর্টের তারিখও গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, ছয় মাস আগের ক্রিয়েটিনিন রিপোর্ট দিয়ে আজকের কিডনি অবস্থা নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পরীক্ষা দিতে পারেন।
বাংলাদেশে চিকিৎসকের নিবন্ধন ও পেশাগত তথ্য যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের অফিসিয়াল সাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। তালিকাভুক্ত তথ্যকে চিকিৎসা-নির্ণয় বা ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরামর্শ হিসেবে গ্রহণ করবেন না।
এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা সম্পর্কে জরুরি তথ্য কী?
| বিষয় | প্রদত্ত তথ্য |
|---|---|
| হাসপাতালের নাম | এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা |
| অবস্থান | ঢাকা, ঢাকা বিভাগ |
| সেবা সময় | প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা |
| চিকিৎসকের চেম্বার | বিভাগ ও চিকিৎসকভেদে সময়সূচি আলাদা হতে পারে |
| অ্যাপয়েন্টমেন্ট | হাসপাতালের অফিসিয়াল মাধ্যমে বর্তমান সময় যাচাই করা উচিত |
হাসপাতাল ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকলেও প্রতিটি বিশেষজ্ঞের বহির্বিভাগীয় সেবা ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে এমন নয়। জরুরি সেবা ও নির্ধারিত চেম্বারের পার্থক্যটি মনে রাখা দরকার। ফি, পরীক্ষা, বেডের প্রাপ্যতা বা চিকিৎসকের সময় সম্পর্কে অনিশ্চয়তা থাকলে হাসপাতালের অফিসিয়াল নম্বর বা ওয়েবসাইটে যাচাই করুন।
এভারকেয়ার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
এভারকেয়ার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট কি ২০২৬ সালের চূড়ান্ত সময়সূচি?
না। এখানে প্রদত্ত চিকিৎসক ও বিভাগভিত্তিক তথ্য সাজানো হয়েছে। চিকিৎসকের চেম্বার সময় ও সেবা পরিবর্তিত হতে পারে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের আগে হাসপাতালের অফিসিয়াল মাধ্যমে সময় নিশ্চিত করুন।
এভারকেয়ার হাসপাতালে কি প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা সেবা থাকে?
প্রদত্ত তথ্যে হাসপাতাল প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞের বহির্বিভাগের সময় আলাদা হতে পারে। জরুরি পরিস্থিতিতে জরুরি বিভাগে যোগাযোগ করুন।
কিডনি রোগের জন্য কোন বিভাগে যাব?
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, ডায়ালাইসিস বা ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথির ক্ষেত্রে নেফ্রোলজি বিভাগ উপযোগী হতে পারে। কিডনিতে পাথর, প্রোস্টেট বা মূত্রনালির অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে ইউরোলজি বিভাগ প্রাসঙ্গিক হতে পারে।
বুকব্যথার জন্য কোন ডাক্তার দেখাব?
বুকব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদস্পন্দনের সমস্যায় কার্ডিওলজি বিভাগে পরামর্শ নেওয়া যায়। কিন্তু তীব্র বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা ঘাম বা অজ্ঞান হওয়ার মতো লক্ষণ থাকলে নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষা না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
শিশুর মৃগীরোগ বা বিকাশজনিত সমস্যায় কোন বিভাগে যাব?
শিশুর মৃগীরোগ, অটিজম, মাথাব্যথা বা চলাচলের ব্যাধিতে পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। তালিকায় ডাঃ সারওয়ার জাহান ভূঁইয়া শিশু নিউরোলজির এসব ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞ হিসেবে উল্লেখ আছেন।
গর্ভাবস্থার জটিলতায় কোন বিভাগ বেছে নেব?
উচ্চঝুঁকির গর্ভাবস্থা, প্রসূতি সমস্যা বা স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য গাইনোকোলজি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগে যোগাযোগ করা যায়। জরুরি রক্তপাত, তীব্র পেটব্যথা বা গর্ভাবস্থায় অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময় কী কী নিতে হবে?
জাতীয় পরিচয়পত্র বা হাসপাতালের প্রয়োজনীয় পরিচয় তথ্য, আগের প্রেসক্রিপশন, পরীক্ষার রিপোর্ট, চলমান ওষুধের তালিকা এবং অ্যালার্জির তথ্য সঙ্গে রাখা ভালো। রিপোর্টের তারিখ ও আগের চিকিৎসার প্রতিক্রিয়াও চিকিৎসককে জানান।
সঠিক বিভাগ বেছে নিয়ে চিকিৎসা শুরু করুন
এভারকেয়ার হাসপাতাল ডাক্তার লিস্ট রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসক খোঁজার একটি ব্যবহারিক সূচনা দিতে পারে। হৃদরোগে কার্ডিওলজি, কিডনি সমস্যায় নেফ্রোলজি, পেটের সমস্যায় গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে পেডিয়াট্রিক্স বিভাগ বিবেচনা করুন। তালিকার তথ্যের সঙ্গে বর্তমান সময়সূচি মিলিয়ে তারপর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিন।
চিকিৎসকের ডিগ্রি ও বিশেষায়িত ক্ষেত্র দেখার পাশাপাশি রোগীর রিপোর্ট এবং উপসর্গের ইতিহাস প্রস্তুত রাখুন। এতে সঠিক বিভাগে পৌঁছানো সহজ হয় এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নও বেশি তথ্যভিত্তিক হতে পারে।